পটুয়াখালীঃ জেলার সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা গ্রামে সম্পত্তি নিয়ে বাবা-ছেলের বিরোধে ঘরছাড়া হয়েছেন ৬৩ বছর বয়সী কারি আব্দুল মান্নান শিকদার। নিজের উপার্জনের টাকায় কেনা জমিতে নির্মিত ঘরে থাকতে না পেরে বর্তমানে মির্জাগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন বলে দাবি তাঁর। জমি ও ঘরের দখল ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হলেও এখনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কারি আব্দুল মান্নান শিকদারের দুই ছেলে—মো. শহিদুল ইসলাম ও মাওলানা তাজুল ইসলাম। আব্দুল মান্নানের দাবি, অনেক কষ্ট করে ছোট ছেলে তাজুল ইসলামকে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং তাকে বড় আলেম হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার সাত-আট মাস পর দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই ছোট ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পরে জমি ও ঘর নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। নিজের লাগানো আমড়াগাছের আমড়া পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় এবং ওই ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বৃদ্ধের অভিযোগ, একপর্যায়ে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে কেনা জমিতে নির্মিত ঘর থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে নিজের বাড়িতে ফিরতে না পেরে ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ছেলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর তাঁর ছেলে জামায়াতের নবাবগঞ্জ ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি যে নথি বা প্রমাণ দেখিয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, বিরোধপূর্ণ জমি ও ঘরটি আব্দুল মান্নান শিকদারের কেনা সম্পত্তি বলে তারা জানেন। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও লেনদেনের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত দলিল নেই। বর্তমানে ওই ঘরে আব্দুল মান্নান বসবাস করছেন না বলেও জানান তারা।
তবে বাবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওলানা তাজুল ইসলাম। তাঁর দাবি, তাঁর বাবা স্ট্যাম্পে লিখে জমিটি তাঁর কাছে বিক্রি করেছেন এবং এ বাবদ শহরে এসে তাঁর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে জমিটি তাঁর বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত না থাকায় এখনো দলিল করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। ঘরটিও তিনি নিজেই নির্মাণ করেছেন বলে দাবি করেন তাজুল।
বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে তাজুল ইসলাম বলেন, জমি ও ঘর নিয়ে বিরোধটি পারিবারিক এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের সম্পর্ক নেই।
