পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী মাহা সাংগ্রাই উৎসব।বর্ণিল সাজে, ঐতিহ্যের রঙে এবং নিখাদ আনন্দে রাঙা এক মহোৎসবে মেতে উঠেছে কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায়।বছরের অন্যতম বড় ও বহুল আকাঙ্ক্ষিত উৎসব সাংগ্রাই উপলক্ষে কুয়াকাটা অঞ্চলজুড়ে বইছে উৎসবের জোয়ার।আর তা উপভোগ করতে ভীড় জমিয়েছেন কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেট মাঠে শুরু হয় মূল জলকেলি বা পানি খেলার অনুষ্ঠান।অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিলিস্তিনের অসহায় মানুষদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে তাদের প্রতি সহনাভূতি প্রকাশ করার জন্য আয়োজক কমিটির কমিটির তরফ থেকে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ।ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত রাখাইন তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নেন রাখাইন নববর্ষ। প্রতিটি ফোঁটা পানির মাঝে যেন লুকিয়ে ছিলো আনন্দ, শান্তি আর নতুন শুরুর প্রত্যয়। শুধু পানি খেলা নয়, মঞ্চে পরিবেশিত হয় রাখাইনদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—নৃত্য, গান আর আবৃত্তির সম্মিলন।এ যেন এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক যাত্রা, যা ছুঁয়ে গেছে উপস্থিত শত শত দর্শকের মন। কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা এক পর্যটক বলেন,আমি কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছি কিন্তু কখনো কল্পনাও করিনি এখানে এসে রাখাইনদের এই সাংগ্রাই উৎসব দেখতে পারবো।এর আগে এত সুন্দর উৎসব দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি।তাই আমি খুবই আনন্দিত এবং আমার খুব ভালো লাগছে এখানে উপস্থিত হতে পেরে। রাখাইন তরুণী লাচো জানিয়েছেন, “সাংগ্রাই শুধু উৎসব নয়, আমাদের জীবনের নতুন সূচনার প্রতীক। সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে একসাথে পথ চলার অঙ্গীকার এটি।তাই এই দিনটি আসলে আমরা আনন্দে মেতে উঠি। উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম।এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন এ ঐতিহাসিক মিলনমেলায়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “রাখাইনদের আমরা কখনোই সংখ্যালঘু ভাবিনা। তারা আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের গর্ব ও ঐতিহ্য। আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকবো। এবারের সাংগ্রাই উৎসব কেবল রাখাইন সম্প্রদায়ের নয়—এটি পরিণত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের এক সার্বজনীন উৎসবে। যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষার পার্থক্য ভুলে সবাই মিলেমিশে উদযাপন করছে সংস্কৃতির এই অপূর্ব রঙিন উৎসব। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে।
