পটুয়াখালী: কারাগারের শয্যা থেকে হাসপাতালের আইসিইউ। হাতে হাতকড়া, শরীরে লাইফ সাপোর্ট—জীবনের শেষ দুই মাস কেটেছে এমনই এক অনিশ্চয়তায়। একের পর এক মামলায় জামিন মিললেও মুক্ত বাতাসে আর ফেরা হয়নি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান (মনির খান)-এর। অবশেষে মৃত্যুই হয়ে উঠল তার শেষ মুক্তি।
বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।
পরিবার জানায়, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মনির খান। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যেই গত ৩০ জুলাই তার বিরুদ্ধে থাকা শেষ মামলাতেও জামিন মঞ্জুর হয়। কিন্তু আদালতের সেই মুক্তির আদেশ আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। হাসপাতালের শয্যাতেই থেমে যায় তার জীবন।
মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং পরে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। এছাড়া সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও পটুয়াখালীতে মোট নয়টি মামলা ছিল। কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হওয়ায় প্রায় ১১ মাস কারাগারেই থাকতে হয় তাকে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও ততক্ষণে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
মনির খানের চাচা আব্দুল কালাম আজাদ জানান, জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
Related Posts
Add A Comment